শরিফুল ইসলাম | পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব, নতুন বছরের প্রথম সকাল, নতুন স্বপ্ন আর নতুন আশার সূচনা। বছরের এই একটি দিন যেন পুরো বাংলাকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে—গ্রাম থেকে শহর, অলিগলি থেকে রাজপথ—সবখানেই উৎসবের রঙিন আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
পহেলা বৈশাখের আগমনী বার্তা শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। দোকানপাটে নতুন হিসাবের খাতা খোলা, ঘরে ঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন পোশাক কেনা—সব মিলিয়ে চারদিকে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে লাল-সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবি আর ফতুয়ায় সেজে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী রূপ।
এই দিনটিতে সকালবেলা মানুষ নতুন সূর্যকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে পড়ে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, কবিতা, নৃত্য—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ। “এসো হে বৈশাখ” গানের সুর যেন বাতাসে ভেসে বেড়ায়, মুছে দেয় পুরোনো বছরের ক্লান্তি আর দুঃখ।
পহেলা বৈশাখের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হলো মেলা। নানা রকম লোকজ সামগ্রী, খেলনা, মাটির জিনিস, পিঠা-পুলি, নকশিকাঁথা—সব মিলিয়ে মেলাগুলো হয়ে ওঠে বাঙালির সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ছোট-বড় সবাই মিলে আনন্দে মেতে ওঠে এই দিনটিতে।
খাবারের আয়োজনও থাকে বিশেষ। পান্তা-ইলিশ, ভর্তা, পিঠা—এসব ঐতিহ্যবাহী খাবার যেন উৎসবের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় ভালোবাসা আর সম্প্রীতির বন্ধন।
পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়—এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। নতুন বছরের এই প্রথম দিনে আমরা সবাই নতুন করে প্রতিজ্ঞা করি—ভালো কাজ করব, সুন্দর সমাজ গড়ব, এবং ভালোবাসা ও মানবিকতায় ভরিয়ে তুলব আমাদের চারপাশ।
তাই বলা যায়,পহেলা বৈশাখ এলেই সত্যিই বাংলা সাজে—রঙে, গানে, আনন্দে আর আশায়।(শুভ নববর্ষ-১৪৩৩ বঙ্গাব্দ)
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।