মোঃ জসিম উদ্দিন তুহিন,যশোর জেলা প্রতিনিধি।।দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠেছিল যশোরের প্রাণকেন্দ্র। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যশোরে এক বিশাল গণসমাবেশ করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা না গেলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সহযোদ্ধাদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা মোড়ে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর গড়াতেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। পরে সন্ধ্যায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।সমাবেশে বক্তারা বলেন, যশোরে রাজপথে রক্ত দেওয়া ৬৮ জন বীর যোদ্ধাসহ দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
আন্দোলনকালে যশোরের জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাঁরা বলেন,আমাদের নেতা-কর্মীরা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও রাজপথে ছিলেন। আমরা তখন বলেছিলাম, জনগণ যেদিন ধিক্কার জানাবে সেদিন পালাবার সুযোগও মিলবে না। আজ পুরো দেশবাসী তার বাস্তব প্রমাণ দেখেছে।সমাবেশে আরও বলা হয়, দেশকে টিকিয়ে রাখতে ও নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক চিন্তা ও নেতৃত্বকে সফল করার বিকল্প নেই। বিএনপি জনগণের কাছে পূর্ণ দায়বদ্ধ।
জনগণ যে সুযোগ বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে দল বদ্ধপরিকর। যদি দলটি ব্যর্থ হয়, তবে দেশের জনগণই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে দেশের সার্বিক পুনর্গঠনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে রূপরেখা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, একটি বিরোধী দল এতে ধৈর্য না ধরে অপেক্ষা করতে চাইছে না।সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের কর্মীরা জান্নাতের টিকিট দেওয়ার নাম করে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।একই সাথে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর সকল সহযোগী ও নিপীড়কদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগরের সঞ্চালনায় গণসমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান।
এ ছাড়াও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনছারুল হক রানা, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পীসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।