অতনু চৌধুরী (রাজু) বাগেরহাট।।বাগেরহাটের মোংলা থেকে উধাও কোটি টাকার সুপারি, ফকিরহাট থেকে উদ্ধার।এ ঘটনায় গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত প্রায় ২০ টন সুপারির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৭’লাখ ৩২’হাজার টাকা।
মামলার আসামিরা হলেন— খুলনার রূপসা উপজেলার তালতলা গ্রামের মোঃ ছলেমান খানের ছেলে মামুন খান (৩৮), খুলনা হরিণটানা থানাধীন মোস্তফার মোড় এলাকার বাসিন্দা মোঁ ছলেমান খানের ছেলে তুহিন খান (৫৫) এবং বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ শেখের ছেলে মোঃ মনি শেখ (৪৩)।জানা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত এ সুপারি মোংলা বন্দর হয়ে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র ঘোষের মালিকানাধীন ‘মেসার্স সনদ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, খুলনা’ নামের একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুপারি পরিবহনের চুক্তি হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মোংলা পোর্ট থেকে ২৫০ বস্তায় ২০ টন সুপারি বেনাপোল বন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। গাড়িটি তুহিন খানের মালিকানাধীন এবং এর চালক ছিলেন মামুন খান।নির্ধারিত সময় ২৪ ফেব্রুয়ারি মালামাল বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা পৌঁছেনি। পরবর্তীতে গাড়ির মালিক ও চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সুপারির মালিকপক্ষ খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ফকিরহাট উপজেলার সাতশৈয়া গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় সুপারিগুলো রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানার একটি টহল দল এসআই মোঃ শিবলী নোমানীর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। সেখানে মনির শেখ নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসার সিঁড়িঘর থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে চটের বস্তাবন্দি ২৫০ বস্তা সুপারি উদ্ধার করা হয়।
থানা পুলিশের দেওয়া সূত্র মতে জানা যায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মালামাল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা চালক ও গাড়ির মালিক পরস্পরের যোগসাজশে সুপারিগুলো আত্মসাৎ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে তৃতীয় ব্যক্তির কাছে গচ্ছিত রাখেন। তৃতীয় আসামি জেনেশুনে চোরাই মালামাল নিজের দখলে রাখেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গোপাল চন্দ্র ঘোষ বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে ফকিরহাট মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করে থানার হেফাজতে নিয়েছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এজাহারের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।