মোঃ জসিম উদ্দিন তুহিন,যশোর জেলা প্রতিনিধি।।যশোরের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ এবং ঐতিহাসিক উলশী–যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শায় এক সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠন, নারী শিক্ষা, কৃষি উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০ তলাবিশিষ্ট মূল ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে এই প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে হাসপাতাল নির্মাণকাজ থমকে ছিল।
২০২৩ সালে একনেকে অনুমোদনের পর বর্তমান সরকারের অধীনে ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে ১০ তলা হাসপাতাল ভবনসহ ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের হোস্টেল, ডরমেটরি এবং ৫০০ আসনের মিলনায়তন নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এর ফলে যশোরসহ পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলার প্রায় ৮০ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।এর আগে প্রধানমন্ত্রী যশোর শার্শার উলশী এলাকায় নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে উলশী-যদুনাথপুর খালের পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন। সমাবেশে তিনি বলেন, “বিগত ৫০ বছর ধরে অবহেলিত এই খালটি সচল হলে ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং বছরে অতিরিক্ত ১ হাজার ৪০০ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন সম্ভব হবে।”
এ সময় তিনি আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খননের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে এবং হাঁস পালনসহ বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে বেশ কিছু নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান:মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে।নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা এবং রান্নার কষ্ট লাঘবে বিশেষ ‘এলপিজি কার্ড’ চালু করা হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতা চালু করা হয়েছে।রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ‘জুলাই সনদ’৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,স্বৈরাচার বিদায়ের পর এখন দেশ গড়ার সময়। আমরা ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দায়বদ্ধ।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী গণআন্দোলনের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
দেশবাসীকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্থিতিশীলতা উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।সিঙ্গাপুরের উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সঠিক নেতৃত্ব থাকলে বাংলাদেশও দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্লোগান দেন,গড়বো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।