1. info@www.khulnarkhabor.com : khulnarkhabor :
লঘুচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে টানা বৃষ্টি জনজীবন বিপর্যস্ত - Khulnar Khabor
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
Copyright © 2022 KhulnarKhobor.com    বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৪৭,আপার যশোর রোড (সঙ্গীতা হোটেল ভবন) ,খুলনা-৯১০০।ফোন:০১৭১০-২৪০৭৮৫,০১৭২১-৪২৮১৩৫। মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
খুলনার খবর
গাবুরায় শুরু হয়েছে ‘নাইনটি’ উচ্ছেদ অভিযান খুলনার নিরালায় বস্তাবন্দি অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার কেশবপুরে সদ্য খনন করা নদীর পাড় ধসে পড়ায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ নড়াইলে ওয়ান শুটার গান ও গুলিসহ একজন কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব যশোর সদর হাসপাতালে দালাল আটক লঘুচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে টানা বৃষ্টি জনজীবন বিপর্যস্ত ফকিরহাটে এক চিকিৎসকের বাড়িতে স্ত্রীর অনশন দিঘলিয়ার সেনহাটি পথের বাজারে মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত যশোরে ছাতিয়ান তলায় গাছ কাটতে গিয়ে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু জাহিদ হাসান টুকুনের দ্রুত সুস্থতা কামনায় প্রেসক্লাব যশোরে দোয়া মাহফিল কেশবপুর-বড়েঙ্গা-ভেরচি-ভরত ভায়না সড়কটি দ্রুত সংস্কারেরর দাবী খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ কেশবপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত দুই নারীসহ ১১ আসামি গ্রেফতার সাভারে বোমা হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বি-স্ফো-র-ণ দিঘলিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত দিঘলিয়া উপজেলা চৌরাস্তা মোড় বাজারের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন তেরখাদায় চাষীদের মাঝে মৎস্যসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা মোল্লাহাটে খেলাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা

লঘুচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে টানা বৃষ্টি জনজীবন বিপর্যস্ত

  • প্রকাশিত : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ বার শেয়ার হয়েছে

অতনু চৌধুরী (রাজু) বাগেরহাট||বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের ৯ উপজেলা সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় তীব্র বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। টানা চার দিন সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণ, দমকা হাওয়া ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায় পণ্য খালাস ও বোঝাই কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

গত রবিবার থেকে বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত টানা চার দিন আকাশ ঘন কালো মেঘে আচ্ছন্ন রয়েছে। দিনভর মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বাগেরহাট, মোংলা ও মোরেলগঞ্জসহ সুন্দরবন-সংলগ্ন চিলা, বুড়িরডাঙ্গা, চাঁদপাই ও মিঠাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক, ইজিবাইকচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নদীপথে যাত্রী পারাপারের সঙ্গে জড়িত মাঝিরা। টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, বসতভিটা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনমজুর ও ভ্যানচালক মোঃ আনার শেখ বলেন, বৃষ্টির কারণে কোনো কাজ নেই। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না করলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

ফল ব্যবসায়ী লাল মিয়া বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই শহর পানিতে ডুবে যায়। ক্রেতা নেই, বিক্রি নেই। মহাজনের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, বুঝতে পারছি না।মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান নান্নু বলেন, রাস্তাঘাট ও বাড়ির উঠানে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত পানি জমেছে। রান্নাঘরে পানি ওঠায় কয়েক দিন ধরে অন্যের বাড়ি থেকে রান্না করে আনতে হচ্ছে।

একই এলাকার মোর্শেদা বেগম বলেন,জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সময় মিলিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানগুছি নদীর ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার বদনীভাঙ্গা, সানকিভাঙ্গা, পাঠামারা ও খাউলিয়া এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।পৌর শহরের কাপুড়িয়া পট্টি কাঁচাবাজার, কলেজ রোড, কেজি স্কুল সড়ক এবং উপজেলা প্রশাসনিক চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা পানিতে তলিয়ে থাকছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ফল ব্যবসায়ী মিজান শেখ, কসমেটিকস ব্যবসায়ী হারুন মোল্লা এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী পলাশ শিকদার বলেন, দুপুরের পর থেকেই রাস্তায় পানি জমে দোকানে ঢুকে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়। গ্রামের ক্রেতারাও দ্রুত ফিরে যান। দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায়। বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ের কাজ ধীরগতিতে চলছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ক্লিংকার, সার, কয়লা ও খাদ্যশস্যবাহী একাধিক বিদেশি জাহাজ মোংলা বন্দরে অবস্থান করছে। ভারী বৃষ্টির কারণে চাল, সারসহ খোলা পণ্য খালাসের কাজ বারবার বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তবে কন্টেইনার ও কিছু যান্ত্রিক পণ্য খালাস সীমিত আকারে চালু রয়েছে। এতে জাহাজের অবস্থানকাল বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার কারণে পশুর নদীসহ উপকূলীয় নদ-নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ১ থেকে ২ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বনাঞ্চলের সব ক্যাম্প, ফাঁড়ি ও টহল দলকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনের অভ্যন্তরের নদী ও খালে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মোংলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ উপকূলীয় বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কিছু চিংড়ি ঘের প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঘের মালিকদের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রামপাল-মোংলা হয়ে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পানগুছি নদীর ভাঙন রোধ এবং বিষখালী নদী পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকার জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও দুই থেকে তিন দিন উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:-  ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।