মোঃ জসিম উদ্দিন তুহিন,যশোর জেলা প্রতিনিধি।।ঢাকার ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত দেশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী নাইম আহমেদ টিটনের দাফন যশোরে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার রাতে যশোর কারবালা কবরস্থানে পিতা ও বড় ভাইয়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে রাত ৮টার দিকে তার মরদেহ যশোর শহরের খড়কি এলাকার পৈত্রিক বাড়িতে আনা হলে সেখানে এক শোকাতুর ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যা করে। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। নিহতের স্বজনদের দাবি ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, বছিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে পিচ্চি হেলাল, কিলার বাদল, শাহজাহান ও ড্যাগারি রনিদের সাথে টিটনের বিরোধ চলছিল।
এই ইজারা সংক্রান্ত একটি কথিত সমঝোতা বৈঠকে ডাকার পরদিনই তাকে প্রাণ হারাতে হয়।নব্বইয়ের দশকের শুরুতে অপরাধ জগতে নাম লেখানো টিটনের উত্থান ছিল উল্কার মতো। যশোরের খড়কি এলাকার এক বড় পরিবারে জন্ম নেওয়া টিটন তার ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমনের হাত ধরে আন্ডারওয়ার্ল্ডে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যাসহ একাধিক মামলা ছিল এবং তিনি ২০১৪ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তও হয়েছিলেন।
২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় জেল খাটেন তিনি। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তির পর তিনি মূলত আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আন্ডারওয়ার্ল্ডের পেশিশক্তি আর ইজারা যুদ্ধের বলি হয়েই সমাপ্তি ঘটল এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর অধ্যায়ের। এ ঘটনায় রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।