পরেশ দেবনাথ, কেশবপুর, যশোর।।যশোরের কেশবপুরে ৫টি ইউনিয়নের ৭ টি স্থানে যাকজমকপূর্ণ পরিবেশে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা সমাপ্ত হয়েছে, কোথাও কোনো সমস্যার কথা জানা যাইনি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ছিল জোরদার। কেশবপুরের সকল ইউনিয়নের মতো মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া গ্রামেও যাকজমকপূর্ণ পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী বসুন্তিয়া সার্বজনীন তারকেশ্বর পূজা মন্দিরে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ-২৬) থেকে পাঁচ দিন ব্যাপী শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শণিবার (২৮ মার্চ-২৬) সকালে দর্পন বিসর্জ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা। পূজা শেষে বিভিন্ন ভক্তরা আরতিতে অংশগ্রহণ করেন।বিভিন্ন ইউনিয়নের মন্দিরগুলোর মতো বসুন্তিয়া সার্বজনীন তারকেশ্বর পূজা মন্দিরে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজার বিজয় দশমীতে বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত চলে সিঁদুর খেলা, ধর্মীয় প্রশ্নোত্তর, খেলাধূলা, গান-বাজনা, নাচ, কমিক, নাটিকা এবং পুরষ্কার বিতরণ ইত্যাদি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলো।
মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম বিশ্বাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।
পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি মাস্টার সুজিত কুমার সরকার জানান, ঐতিহ্যবাহী বসুন্তিয়া তারকেশ্বর পূজা মন্দিরে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা ৭৬ তম বছর অতিক্রান্ত করলো। বহু দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ এখানে পূজা দেখতে আসেন। পঞ্জিকায় লেখক, গণক, চণ্ডী পাঠক ও গবেষক প্রয়াত তারকনাথ ভট্টাচার্যের নামানুসারে বাংলা ১৩৫৫ সালে এই মন্দিরটি স্থাপন করা হয়। সে অবধি এখানে চলে আসছে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজাসহ আরও অনেক পূজা।তারকেশ্বর পূজা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দেবনাথ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পাঁচ দিন ব্যাপী শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত হয়েছে। ভক্তদের আপ্যায়ন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। জাকজমকপূর্ণ পরিবেশে শণিবার সকালে দর্পন বিসর্জ্জনের মধ্য দিয়ে পূজার কার্য সমাপ্ত হয়েছে, কোন প্রকার সমস্যা হয়নি।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রায় জানান, সকালে যাত্রামঙ্গল শেষে দর্পণ বিসর্জ্জনের মধ্য দিয়ে পূজার কাজ শেষ হয়। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মায়ের কপালে সিঁদুর, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে পুরষ্কার বিতরণ। বসুন্তিয়া সার্বজনীন তারকেশ্বর পূজা মন্দিরে পূজা কার্যে নিয়োজিত ছিলেন, পাঁচারই গ্রামের মিহির চক্রবর্তী, অশোক চক্রবর্তী, তাপস চক্রবর্তী ও বিনোদ চক্রবর্তী।ভালুকঘর ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সভাপতি অধ্যাপক (সহঃ) অসীম কুমার ভট্টাচার্য্য ও সধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ ঘোষ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মন্দিরে পূজার্চনা কার্যে নিয়োজিত ছিলেন শংকর ভট্টাচার্য ও সুকান্ত ভট্টাচার্য।
কেশবপুরে এবার উপজেলায় ৬ টি সার্বজনীন ও ১ টি পারিবারিক মন্দিরে পূজা হচ্ছে। ১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর কুণ্ডুপাড়া বাসন্তি মন্দির ও শ্রীরামপুর হরিতলা পূজা মন্দির, ৫ নং মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া সার্বজনীন তারকেশ্বর পূজা মন্দির, ৭ নং পাঁজিয়া ইউনিয়নের মাদারডাঙ্গা গ্রামের সুকুমার কুমার পালের বাড়িতে সার্বজনীন বাসন্তী পূজা মন্দির ও অসিত কুমার পালের বাড়িতে পারিবারিক বাসন্তী পূজা মন্দির, ৯ নং গৌরীঘোনা ইউনিয়নের ভেরচি বাসন্তী পূজা মন্দির, ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভালুকঘর ঠাকুরবাড়ি মন্দিরে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে হয়েছে।
পাঁজিয়া ইউনিয়নের মাদারডাঙ্গা গ্রামের সুকুমার পালের বাড়িতে সার্বজনীন হিসাবে বাসন্তী পূজা হয়েছে। মাস্টার সুশান্ত পাল বলেন, এই মন্দিরে শতাধিক বছর ধরে পূজা হচ্ছে। একই গ্রামে অসিত পালের বাড়িতে ৪ ভাই মিলে পূজা করছেন।
তিনি বলেন, আমরা এই পারিবারিক মন্দিরে ৪৩ বছর ধরে পূজা করে আসছি। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।