নিজস্ব প্রতিনিধি || পবিত্র রমজান মাসে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৯ মার্চ রোজ সোমবার খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস–১ এলাকায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানে ওয়ার্ড, দৌলতপুর থানা এবং খুলনা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে একটি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে এমন আয়োজন হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ক্যাম্পাস একটি সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত এলাকা। এখানে বহিরাগতদের প্রবেশ ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দিষ্ট নিয়মনীতি রয়েছে। তাই কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারির আওতায় থাকা উচিত। তাদের মতে, এ ধরনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট ও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। ইফতার মাহফিল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। মাননীয় উপাচার্য মহোদয়কে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তিনি তা সানন্দে গ্রহণও করেছিলেন। তিনি আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন উপস্থিত হননি তা আমাদের জানা নেই।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিন্নধর্মী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো দোয়া মাহফিল বা আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এমনকি শোক প্রকাশের জন্য একটি ব্যানার টানানোর অনুমতিও শিক্ষার্থীরা পায়নি। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় কর্মসূচি কীভাবে ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হলো, তা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাস এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করা সাধারণত সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র দাবি করেছে, একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে উপাচার্য নাকি জানিয়েছেন যে তিনি এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠানের অনুমতি দেননি।
ঘটনাটি ঘিরে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।