খুলনার খবর || খুলনা নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫) আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজ কন্যাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ এখনও পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে সদর থানা পুলিশ।
তদন্তের শুরু থেকেই সিসিটিভি ফুটেজ,তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে নিহতের পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করে পুলিশ।একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ জুলাই সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে।
পুলিশ কমিশনার জানান,নিহত কিশোরীর নাম আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)। তদন্তের একপর্যায়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতেও জবানবন্দি দেন।
পুলিশের দাবি,জবানবন্দিতে সিমা জানিয়েছেন,মেয়ের বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি কন্যাকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান,ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের লাঠিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।