ডুমুরিয়া প্রতিনিধি || খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ শাহপুর-দৌলতপুর (মহসিন রোড) সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে ভরে ডোবার রূপ নেয়, আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে চলাচল। ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহনচালক চরম ঝুঁকি ও সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহপুর থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত সড়কের অধিকাংশ অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই পণ্যবাহী ভ্যান, ইজিবাইক ও ছোট ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবহন ব্যয় ও সময় বেড়েছে, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের পাশাপাশি সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবহন বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কলেজের প্রধান সহকারী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, দৌলতপুর-শাহপুর সড়কটি বর্তমানে বাস চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই ২৮ জুন ২০২৬ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের শিক্ষার্থী পরিবহন বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে খুলনা-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন দ্রুত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা পুনরায় নিরাপদে কলেজ বাসে যাতায়াত করতে পারে।
ডুমুরিয়া একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সবজি, মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এই সড়ক দিয়েই খুলনা শহর ও দৌলতপুর মোকামে পরিবহন করা হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই পণ্যবাহী যানবাহন উল্টে যাচ্ছে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। পাশাপাশি অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপজেলা প্রকৌশলী জানান, জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল এবং সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির প্রাক্কলন (এস্টিমেট) প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তিতে পুনর্নির্মাণের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।