মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি।।পবিত্র রমজান মাস ঘনিয়ে আসলেই দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়—এমন অভিযোগ বহুদিনের। প্রতিবছরের মতো এবারও রমজানকে কেন্দ্র করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, বেগুনসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চরম বিপাকে।
ক্রেতারা জানান, রমজান শুরুর আগেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ইফতার সামগ্রী—ছোলা, খেজুর, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় এক ক্রেতা বলেন, “রমজান মাস তো সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু বাজারে গেলে মনে হয় এ মাসটাই যেন ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার সময়। প্রতিদিনই নতুন করে দাম বাড়ছে, সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণেই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে। তবে ভোক্তাদের দাবি, যথাযথ বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু চক্র সুযোগ নিচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত অভিযান, মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
সচেতন মহলের মতে, রমজানের প্রকৃত শিক্ষা হলো সংযম ও সহমর্মিতা। তাই এ সময় অতিরিক্ত মুনাফার মানসিকতা পরিহার করে ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা উচিত। একই সঙ্গে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণেই বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে অস্থির বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।