অতনু চৌধুরী (রাজু) বাগেরহাট||বাগেরহাটের ফকিরহাটে ঘুষ না দেওয়ায় সরকারি প্রকল্পের গরু বঞ্চিত দরিদ্র জেলে- অভিযোগ, সেই গরু বিক্রি করা হয়েছে অন্যত্র। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসারের কার্যলয় থেকে বিতরণকৃত গরু (বখনা বাছুর) ঘুষের ১০ হাজার টাকা না পেয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় নাম থাকা গরিব জেলে তারাপদ বিশ্বাসের বরাদ্দকৃত গরু না পাওয়ায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই গরু একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। সেখানেই পাওয়া গেছে গরুটি।
জানা গেছে, ফকিরহাট উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহর মৌভোগ গ্রামের বাসিন্দা পুর্ণচরন বিশ্বাসের ছেলে তারাপদ বিশ্বাস পেশায় দরিদ্র জেলে। তিনি ফকিরহাট মৎস্য অফিসের তালিকাভুক্ত জেলে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে জেলেদের গরু দেওয়ার জন্য নাম তালিকাভুক্ত করা হয়।
তারাপদ বিশ্বাসের অভিযোগ, উক্ত প্রকল্পের গরু দেওয়ার জন্য ফকিরহাটের নলধা মৌভোগ গ্রামের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহিত বালা তারাপদ বিশ্বাসের কাছ থেকে জেলে কার্ড সংগ্রহ করে। এর কিছুদিন পর গরু দেওয়ার শর্ত হিসেবে অফিস খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করলে দরিদ্র তারাপদ বিশ্বাস তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ফকিরহাট উপজেলা মৎস্য অফিসারের কার্যালয় থেকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহর উপস্থিতিতে তারাপদ বিশ্বাসের নামে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত গরুটি তাকে না জানিয়ে মোহিত বালার কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী তারাপদ বিশ্বাস বিষয়টি জানতে পারেন যে, তার নামে তালিকার ৩৯ ক্রমিক নম্বরে বরাদ্দকৃত গরুটি (৬০ কেজি ওজনের বখনা বাছুর) মোহিত বালা অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। দরিদ্র জেলে তার নামে বরাদ্দ হওয়া গরুটি ফিরে পেতে মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে বার বার যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, শুধু তিনি নন, উপজেলায় ওই দিন বিতরণকৃত ৬০টি গরু তালিকাভুক্ত অনেক জেলে সঠিকভাবে পায়নি। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও খোঁজ খবর নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ভুক্তভোগী তারাপদ বিশ্বাস বলেন, ‘‘মৎস্য অফিস থেকে আমার নামে বরাদ্দকৃত গরু কোন যাচাই-বাছাই ছাড়া মোহিত বালার কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি চাহিদাকৃত ১০ হাজার টাকা না দেওয়ায় এমনটা করা হয়েছে। তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও আমাকে গরু বিতরণের তারিখ ও বিষয়টি না জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছে।
তারাপদ বিশ্বাসের ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস জানান, ‘‘প্রকল্পের গরু মোহিত বালার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা মৎস্য অফিসারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিলে উল্টো মোহিত বালার মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মোহিত বালা এ ইউনিয়নের আরও কয়েকজনের কাছ থেকে গরু দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছেন।
একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে শ্রীবাস বৈরাগী জানান, মোহিত বালা তার কাছে গরু দেওয়ার জন্য অফিস খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। তবে দরকষাকষি করে তাকে ৪০০০ টাকা প্রদান করেন। এরপর উপজেলা মৎস্য অফিসারের কার্যালয় থেকে গরু নিয়ে আসেন। পরে জানতে পারেন ওই গরু তারাপদ বিশ্বাসের নামে বরাদ্দ ছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহিত বালা বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমি দায়ী না। মৎস্য অফিস কাকে গরু দিয়েছে বা না দিয়েছে তা আমার জানা নাই। এটা মৎস্য অফিস বলতে পারেন।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ গরু না পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারাপদ বিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে তালিকাভুক্ত ও প্রকল্পের তালিকাভুক্ত প্রকৃত জেলে। তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি তিনি না আসায় কার্ড দেখে তার ছেলে পরিচয়দানকারী একজনকে দিয়েছি। তিনি গরু পাননি বলে অভিযোগ দেওয়ায় মাঠ সহায়ক কর্মী কমলেশ দাশকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’’ তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে গরু হস্তান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
জেলা মৎস্য অফিসার রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের ভিত্তিতে কারো দায়িত্বে অবহেলা বা দুর্নীতি থাকলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।