শরিফুল ইসলাম, খুলনা || খুলনায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যেসব পাম্প খোলা রয়েছে, সেগুলোতেও দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল থেকেই খুলনার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে চালকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।রোববার সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,তেলের প্রাপ্যতার পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। অনেক পাম্পে তেল নেই লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও রাইড শেয়ারিং কর্মীরা।খুলনার বেশ কিছু এলাকা গল্লামারী থেকে বটিয়াঘাটা, গাওঘড়া এলাকায় প্রত্যন্ত এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো হয়,যাদের কিনা দিনে ২০০ টাকার পেট্রোলে ভাড়া মেরে পোষায় না।তারপর এসব এলাকায় খোলা দোকান থেকে পেট্রোল লিটার প্রতি কিনতে হচ্ছে ১৮০ টাকা করে।
গাওঘরা এলাকার রাইড শেয়ারিং চালক নবিরুল আক্ষেপ করে বলেন,গত ‘তিন দিনে পাঁচ ট্রিপ মারিছি’ ইরাম করে চল্লি না খায়ি মরতি হবেনে”। সকাল ১০টায় লাইনি দাড়ায়ে সাড়ে ১২টার সময় কতিছে তেল নাই। আজগে কামাই-রুজি সব বন্ধ।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গণপরিবহনেও। রাস্তায় বাসের সংখ্যা অন্যদিনের তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গন্তব্যে যাওয়ার যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।পাশাপাশি যে পরিবহন গুলো খুলনা থেকে নানা গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে সেখানেও ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রভাব পড়েছে পন্য পরিবহনেও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে নিত্যপণ্যের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তেল সংগ্রহ করতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, সকাল থেকে তেল নিতেই সময় কেটে যাচ্ছে রাস্তায়। দিনের অর্ধেক সময় যদি পাম্পেই চলে যায়, তবে দৈনন্দিন কাজ করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কর্মজীবীদের উপর সরাসরি এর প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে।তেলের অভাবে বিকল্প যানের অফিসে যেতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি অফিসে সময়মতো পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে।দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
সরকার ইতোমধ্যে তেলের রেশনিং কিছু ক্ষেত্রে তুলে নিয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তবে পুরোপুরি স্বস্তি পেতে সময় লাগতে পারে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।