মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি।।খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের চত্বরে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি রোগী ও দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠাতে ভাড়া করা যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি রোগীর স্বজনদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।স্থানীয় কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, জরুরি মুহূর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়ায় তাদের ব্যক্তিগত খরচে রোগী পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
অপারেশন থিয়েটারে যন্ত্রপাতি থাকলেও বন্ধ অস্ত্রোপচার
হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন এবং ওটি লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকলেও বিশেষজ্ঞ সার্জন ও অ্যানেসথেসিস্ট না থাকায় নিয়মিত অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ অপারেশনের প্রয়োজন হলেও রোগীদের খুলনা বা অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলোর কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বহির্বিভাগে চিকিৎসক সংকট হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রোগীদের টিকিট বিতরণ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে সব কক্ষে চিকিৎসক পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক রোগী জানান, চিকিৎসকের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসক না আসায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না।
এনসিডি কর্নারে ওষুধ সংকট ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগীদের জন্য হাসপাতালের এনসিডি কর্নার চালু থাকলেও নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা জানান, অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ পেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
জনবল নিয়ে প্রশ্ন হাসপাতালের বিভিন্ন পদে জনবল সংকটের পাশাপাশি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু কর্মচারী তাদের মূল দায়িত্বের বাইরে অন্য কাজে নিয়োজিত থাকছেন। এসব বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি।
কয়রা উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতালটিতে দ্রুত চিকিৎসক, সার্জন, অ্যানেসথেসিস্ট ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনবল সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ কয়রা উপজেলার মানুষের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র। তাই হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।